Today’s (20-05-12) news
Today’s (20-05-12) links
Today’s (19-05-12) links
1. Game over for the climate
2. Only awareness can help save environment
3. Trees imperative for cooling and cleaning
4. World’s tiger populations declined 70pc in 30 yrs
5. Poachers strike: Tiger chopped into 10 pieces in Maharashtra
6. ‘National shame! Form SIT to probe tiger deaths’
7. Poaching Puts Pressure on Malayan Tiger
8. Tiger populations declining fast
Today’s (19-05-12) news
গ্রামগঞ্জের চিরচেনা পাখি ব্যাপক নিধন হচ্ছে (Rampant killing of rural birds)_Purbanchal
18 May 2012
আমাদের দেশে শীতকালে অতিথি পাখি নিধন করার মহোৎসব চলতে দেখি আমরা। সেই চোরা শিকারীরা বছরের অন্য সময় কিন্তু বসে থাকে না। তারা আমাদের গ্রাম-গঞ্জের চিরচেনা পাখিগুলোও মেরে সাবাড় করছে। ব্যাপকভাবে এসব পাখি নিধনের ফলে আমাদের প্রাকৃতিক ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষাসহ আমাদের দেশের জলাভূমির ভারসাম্য রক্ষায় ব্যাপক অবদান রাখে বক পাখি। কিন্তু এ পাখি আজ বিলুপ্ত হতে চলেছে। বিশেষ করে শিকারীদের পাতা ফাঁদে ব্যাপক হারে ধরা পড়ার ফলে আজ এরা বিপন্ন। নানা প্রজাতির বক রয়েছে। এটি আমাদের দেশের অতি চেনা একটি পাখি। গ্রামে-গঞ্জে সর্বত্র জলাভূমিতে মাছ শিকারের আশায় গাছের ডালে বসে থাকতে বা বিল-ঝিল-নদী-নালা পুকুরের পানিতে নয় তো পানির ধারে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় বকদের। প্রকৃতির সঙ্গে মিশে থাকা ধ্যানে মগ্ন বক আমাদের সবার দেখা চিরচেনা একটি দৃশ্যপট। ইদানীং এ দৃশ্য শহর বা শহরতলীতে তো নয়ই, বরং গ্রামাঞ্চলেও খুব বেশি একটা চোখে পড়ে না। এর আরেকটি কারণ হচ্ছে সহজলভ্য এবং সর্বত্র বিরাজমান বককে নির্বিচারে হত্যা করে আমাদের রসনা তৃপ্তি। আজকাল শহর অঞ্চলে এক শ্রেণীর পাখি বিক্রেতাদের দেখা যায় হাতে ঝুলিয়ে বক বিক্রি করতে। এই চোরা পাখি শিকারীরাই বকের প্রধান শত্রু। বকরা সাধারণত জলাভূমির পাশে বড় কোন গাছে, নয় তো বাঁশ ঝাড়ে বাথান গড়ে তুলে ঝাঁক বেঁধে বাস করে। একটা বাথানে অনেক পাখি থাকে। কোন কোন বাথানে দু’শ’ থেকে তিন শ’ পর্যন্ত বককেও এক সঙ্গে থাকতে দেখা গেছে। রাতে এসব বাথানে জাল এবং ফাঁদ পেতে অতি সহজেই শিকারীরা বকদের ধরে। এছাড়া বড়শিতে কোলা ব্যাঙ বা মাছ গেঁথেও অতি সহজে এ নিরীহ পাখিদের ধরা যায়। ফলে এসব লোভী শিকারীর কবলে পড়ে ব্যাপক হারে নিধন হচ্ছে বক পাখিরা। এছাড়া জমিতে কীটনাশক ব্যবহার করার ফলে কীটনাশকে মৃত ব্যাঙ, কেঁচো এবং পোকা মাকড় খেয়েও বিষক্রিয়ায় নির্বিচারে মারা পড়ছে বক জাতীয় পাখি। আমাদের দেশে বক প্রজাতির নানা পাখি দেখতে পাওয়া যেত। এদের মধ্যে অনেক জাতের বক এখন বিলুপ্তপ্রায়। সামান্য কিছু টিকে আছে সুন্দরবন নয় তো বিল হাওড়ের দুর্গম অঞ্চলগুলোতে। বক জাতীয় যে পাখি এখন বিলুপ্তির পথে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে নিশি বক, গো বক, বেগুনি বক, কালো বক, নল ঘোঙ্গা, কোদালী বক, সবুজ বক, মোহনা বক, খুন্তে বক, ধূসর বক, মদনটাক বক, কাস্তেচোরা, বড় বক, শামুক ভাঙ্গা বক, সাদা বক ইত্যাদি। বড় বক বা ডাটিয়া আকৃতিতে ৭৫ সেন্টিমিটার থেকে সর্বোচ্চ ১শ’ ৫২ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। এরা স্থানীয় জাতের পাখি। গ্রামাঞ্চলের বাঁশ-ঝাড় বা বড় বড় গাছের ওপর এরা ডাল পালা দিয়ে বাসা বানায়। কেউ বিরক্ত না করলে এরা একটি বাসা দীর্ঘদিন ব্যবহার করে থাকে। কালো লম্বা পা এবং অপেক্ষাকৃত লম্বা বাহারী গলা, লম্বা হলুদ ঠোঁট এবং শুভ্র পালকের এ বকগুলোকে গ্রামাঞ্চলের লোকজন ডাটিয়া বক বা বৃহৎ বক বলেও ডাকে। আগে দেশের সর্বত্র এদের দেখতে পাওয়া যেত। এখন শুধু সিলেটে বড় বড় হাওড় এবং বড় নদীর চরাঞ্চলে এদের দেখতে পাওয়া যায় তবে সংখ্যায় অল্প। মাছ, ব্যাঙ এবং জলজ পোকা মাকড় এদের প্রধান খাদ্য। সাধারণত পানিতে দাঁড়িয়ে বা হেঁটে হেঁটে মাছ এবং ব্যাঙ ধরে খায়। জলাভূমির ভারসাম্য রক্ষায় এদের রয়েছে অবদান। বক গোত্রের আর একটি বিলুপ্তপ্রায় পাখি হচ্ছে শামুক ভাঙ্গা। এদের শামুক খোল নামেও ডাকা হয়ে থাকে। চট্টগ্রামের কাপ্তাই হ্রদ এবং সুন্দরবন এলাকায় এদের দেখা যায়। শামুক ভাঙ্গা পাখির পালকের রং সাদা। তবে পিঠে লেজ ও ডানার সম্মুখের অংশে কালো। জলজ শামুক এদের প্রধান খাদ্য। তবে শামুকের পাশাপাশি ব্যাঙ, কাঁকড়া ও জলজ পোকা মাকড়ও এরা খেয়ে থাকে। পাখি পর্যবেক্ষকদের মতে শামুক ভাঙ্গার সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমছে। দেশের সর্বত্র যে বক আগে দেখতে পাওয়া যেত সেই নিশি বক এখন আর সুন্দরবন ছাড়া অন্য কোথাও তেমন একটা চোখে পড়ে না। আকৃতিতে পঞ্চাশ সেন্টিমিটার এবং মাথা, ঘাড় ও পিঠের রং কালচে। এছাড়া শরীরের বাকি অংশের পালকের রং ফুরফুরে সাদা। সুন্দর নিশি বকের আর একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এরা দিনের বেলা ঝোপঝাড়ে লুকিয়ে থাকে। আর আঁধার নামার পরেই বের হয় খাদ্যের অন্বেষণে। এদের চোখের বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণেই এরা রাতে ভাল দেখতে পায়। নিশাচর এই বক দিনের বেলা দলবদ্ধভাবে ঝোপ জঙ্গলে আশ্রয় নেয় বলেই বিশ্রামকালে এরা অতি সহজেই শিকারীদের হাতে ধরা পড়ে। ফলে নিশি বক অতিদ্রুত বিলুপ্ত হতে চলেছে। এ ছাড়া এদের মাংস অত্যন্ত সুস্বাদু বলেই মানুষের রসনাতৃপ্তি মেটাতেই এরা আজ নিঃশেষ হতে চলেছে। আকৃতিতে পঞ্চাশ থেকে ষাট সেন্টিমিটারের বেশি নয়। এরা ওয়াক ওয়াক শব্দে ডাকে বলে অনেক এলাকায় এদের ওয়াক বক নামেও চিনে। আমরা আশা করবো, চোরা শিকারীদের হাত থেকে গ্রাম-গঞ্জের চিরচেনা পাখিদের রক্ষায় সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বিষয়টি নিয়ে কোনরকম অন্যমনষ্কতা আমরা প্রত্যাশা করি না।








































